গত ১৪ই জানুয়ারি ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ISRO) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, ডঃ ভি. নারায়ন। এবার যেই মানুষটাকে ভারতের এতো বড়ো একটা পদের দায়িত্ব দেওয়া হলো, আমার মনেহয় সেই মানুষটার জীবন কাহিনী আমাদের প্রত্যেক ভারতীয়র, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই জানা রাখা উচিত। কারণ যেই মানুষটার গ্রামে পড়াশোনার জন্য স্কুল ছিল না,সেই মানুষটা কীকরে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার মতো একটা সংস্থা চেয়ারম্যান হয়ে উঠে আসতে পারেন, আশাকরি সেই গল্প আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই একটা প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
ডক্টর ভি নারায়ণের জন্ম হয়েছিল ১৯৬৪ সালের ১৪ই মে, তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী জেলায়। এবার যে গ্রামে ওনার ছোটবেলা কেটেছে সে গ্রামের নাম মেলাকাট্টভিলাই। এই মেলাকাট্টভিলাই গ্রামেই ওনার প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই গ্রামে আর কোনো বিদ্যালয় না থাকায় ওনাকে নিজের মধ্যশিক্ষা শেষ করার জন্য পাশের একটি গ্রাম 'কিলাকাট্টুভিলাই'তে যেতে হয়েছিল। সেই স্কুলটি আবার তার গ্রাম থেকে এক মাইলেরও বেশি দূরে ছিল। যতটা জানা যায়, জোয়ানপুরামে নিজের মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার সময় তার বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। আরো অবাক করার কথা, এখনো পর্যন্ত ওনার গ্রামটা গুগল ম্যাপে সার্চ করলে পাওয়া মুশকিল।
স্কুল জীবনের শিক্ষা শেষ করার পর ডক্টর ভি নারায়ন একটি পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি হন এবং সেখানে তিনি 'মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং' এ ডিপ্লোমা করেন।। এরপর খড়গপুর আইআইটি থেকে তিনি 'কায়রোজেনিক ইঞ্জিনিয়ারিং' এ M.Tech এবং অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং'এ PhD করেন। শিক্ষা জীবন শেষে তিনি ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা অর্থাৎ ইসরোতে যোগদান করেন।
এরপর তিনি ইসরোতে Augmented Satellite Launch Vehicle (ASLV) , Polar Satellite Launch Vehicle (PSLV) & Liquid Propulsion Systems Centre এর নির্দেশক হিসাবে কাজ করেন এবং এর বিকাশে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ভারতীয় মহাকাশ ও গবেষণা সংস্থার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা ডক্টর ভি নারায়ণকে ২০১৯ সালে ন্যাশনাল ডিজাইন আওয়ার্ড এবং ন্যাশনাল অ্যারোনিউটিক্যাল অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত করা হয়। ডক্টর ভি নারায়ণের নেতৃত্বে ইসরোতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিশন রয়েছে। তার মধ্যে Chandryan 4 এবং মিশন গগনযান উল্লেখযোগ্য। আশা করি ওনার মেধা, জ্ঞান এবং সঠিক নেতৃত্ব ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা উৎকৃষ্টতা শিখরে পৌঁছবে।
Post a Comment